1. protinews24@gmail.com : protinews.com : Bamgakobi Zahed
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:২৭ অপরাহ্ন

সিফফিন যুদ্ধের কাহিনী

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৬

সিফফিন যুদ্ধ মুসলমানদের কাছে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা। এ যুদ্ধে এমন অবাক করা ঘটনা ঘটেছে যা পাঠক হয়ত বিশ্বাস করবে না। যুদ্ধ যারা করেছে, উভয় দলের সকলে ছিল ভাই ভাই। একসাথে পানি পান করার জায়গায় যেত। পানি পান করত। পানি পান করতে ভীড় করেছে। সেখানে একে অপরকে কষ্ট দিতো না।।

তারা ছিল এক কবিলার মানুষ। উভয় দলের নিজস্ব ইজতেহাদ ছিল। প্রত্যেকেই নিজেকে হকের উপর মনে করে যুদ্ধ করেছে। উভয় দলের লোকজন ক্লান্ত হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করেছে। এরপর বসে একসাথে বিশ্রাম নিয়েছে। অনেক কথা বলেছে। এরপর উঠে দাড়িয়ে একে অপরের সাথে যুদ্ধ করেছে। (আলবেদায়া ওয়ান নেহায়া, ১০/২৭২)

আম্মার রা. যে দিন মৃত্যুবরণ করেছেন, সেদিন উভয় দল জানাজার নামাজ পড়েছে। সিফফিনে অংশগ্রহণকারী একজন বর্ণনা করেন,

“আমরা সিফফিনে অবতরণ করলাম। অনেকদিন যুদ্ধ করলাম। প্রচণ্ড যুদ্ধ হলো। এমনকি আমাদের ঘোড়ার খুর ক্ষতিগ্রস্থ হল। আলি রা. তখন আমর বিন আস রা. এর নিকট সংবাদ পাঠান যে, আমাদের অনেকেই যুদ্ধে মারা গেছেন। সুতরাং তাদের কাফন-দাফনের জন্য যুদ্ধ সাময়িক বন্ধ রাখা হোক। তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন। উভয় দল মিলেমিশে নিহতদের কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করল।” (আনছাবুল আশরাফ, ৬/৫৬)

যুদ্ধের ময়দানেও তারা অন্যায় কাজ থেকে বাধা প্রদান করেছেন। কারিদের একটি দল যুদ্ধের ময়দানে ছিল। তারা ছিল আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর ছাত্র। ইরাক এবং সিরিয়া থেকে এসেছে। কিন্তু কোন বাহিনীতে যোগ দেয়নি। তারা আমিরুল মুমিনিনকে বলে, আমরা আপনার সাথে বের হয়েছি। কিন্তু আপনার বাহিনীতে যোগ দেব না। আমরা মধ্যখানে অবস্থান করে আপনার এবং সিরিয়াবাসীর অবস্থা লক্ষ্য করব। উভয় বাহিনীর কেউ এমন কোনো কাজ করল শরীয়তে যা হালাল নয়, আমরা তাকে বাধা প্রদান করব। আলি রা. বললেন, আহলান সাহলান। এটাই প্রকৃত দ্বীনের ইলমের গভীরতা। যে এটা মানবে না সে অপরাধী এবং খেয়ানতকারী।

যুদ্ধের ময়দানের অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে সহজেই বুঝে আসে যে, সিফফিন যুদ্ধের বন্দিদের সাথে কেমন আচরণ করা হয়েছিল। এমনিতে আল্লাহ এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ বন্দিদের সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তম খাবার খাওয়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেটা অমুসলিমের বেলায়। আর মুসলমান হলেতো অবশ্যই তার সাথে উত্তম আচরণ করা হবে। যুদ্ধের কারণে এবং বিভেদ থেকে বাঁচতে আলি রা. বন্দি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে যারা বায়আত করত, তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হত। অস্বীকার করলে তার অস্ত্র এবং বাহন কেড়ে নেওয়া হত। অথবা যে তাকে বন্দি করেছে, তাকে দান করে দেওয়া হত। হত্যা করা হত না। আলি রা. এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল। বিদ্রোহিদের দুর্বল করে দেওয়া।
সিফফিন যুদ্ধে একজন যুদ্ধ বন্দিকে আলি রা. এর নিকট নিয়ে আসা হল। বন্দি বলল, তোমরা আমাকে হত্যা কর না। আলি রা. বললেন, আমি আল্লাহকে ভয় করি। অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব না। এরপর তাকে ছেড়ে দিলেন। (. কিতাবুল উম, শাফেয়ি, ৪/২২৪)

উপরোক্ত রেওয়ায়াত সমূহ থেকে যুদ্ধ বন্দিদের সাথে যে আচরণ বুঝে আসে তা হলো-
* বন্দিদের সাথে উত্তম আচরণ।
* তারা যদি বায়আত করত, তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হতো।
* বায়আত করতে অস্বীকার করলে তার অস্ত্র এবং বাহন কেড়ে নিয়ে যে বন্দি করেছে তাকে দিয়ে দেওয়া হতো।
* সে যদি হত্যার ব্যাপারে অটল থাকে, তাহলে তাকে প্রতিশোধ হিসাবে হত্যা করা হতো না। বরং বন্দি করে রাখা হতো। আলি রা. এর নিকট ১৫ জন বন্দি নিয়ে আসা হল। তাদের অনেকে ছিল আহত। তাদের থেকে যারা মারা যায়, আলি রা. তাদের গোছল করিয়ে কাফন পরিয়ে জানাজার নামাজ পড়ে দাফন করেন। (তারিখে দিমাশক, ১/৩৩১)

মুহিব উদ্দিন আলখতিব এ যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,
ইতিহাসে এ যুদ্ধ বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। কারণ উভয় দল ফজিলত লাভের আশায় যুদ্ধ করেছে। যদি এ যুদ্ধ না হতো, তাহলে যুদ্ধ সম্পর্কে ইসলামের অনেক বিধান আমাদের জানা হত না। প্রত্যেক বিষয়েই আল্লাহর কোনো হেকমত রয়েছে। এজন্য ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন, যদি তাদের মাঝে পরস্পর যুদ্ধ হত না, তাহলে আমরা জানতে পারতাম না মুসলমানদের যুদ্ধের ব্যাপারে কি আচরণ হবে?

রেজাউল করীম আবরার

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© বঙ্গকবি মিডিয়া লিমিটেড