1. protinews24@gmail.com : protinews.com : Bamgakobi Zahed
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪০ অপরাহ্ন

নেতাজির নেতা ভারতবর্ষ স্বাধীনতার অন্যতম কারিগড় মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধী রহঃ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৫০

সংগ্রহীত বার্তা

#নেতাজীর_নেতা_ছিলেন_কে ?
নেতাজীকে যিনি পূর্ণ স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন তিনি হচ্ছেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি, ঐতিহাসিক সুপ্রকাশ রায় যাঁকে ‘ওবেদুল্লা’ বলেছেন। তিনিই সুভাষ বসুকে ভারতের বাইরে নানা নামে পাঠিয়েছিলেন। তিনিই সুভাষ বসুর নাম দিয়েছিলেন মৌলবী জিয়াউদ্দিন। এ বিখ্যাত বিপ্লবী মাওলানাকে যখন ভারত হতে বের করে দেয়া হয়েছিল তখন সে বিপজ্জনক সময়ের মধ্যে তিনি জার্মানী, জাপান, ফ্রান্স, কাবুল প্রভৃতি স্থানে এমন কৌশলে সংগঠন করে এসেছিলেন যাতে পরবর্তীকালে প্রতিনিধি হিসেবে অন্যের যাওয়া সহজ হয়। তাছাড়া প্রত্যেকটি জায়গায় শিষ্য ও বন্ধু সৃষ্টি করে ভারতের স্বাধীনতার সাহায্য সোপান সৃষ্টি করে এসেছিলেন। সেসব দেশে তিনি যাঁদের সাথে আলাপ করে, সাহায্যের প্রতিশ্রুতি আদায় করে এসেছিলেন, তাঁরা বেশিরভাগই ছিলেন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মী। ছদ্মবেশী সুভাষ বসুর ‘মৌলবী জিয়াউদ্দিন’ নামকে ইতিহাসে যদিও অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে স্থান দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নেতাজীর নেতা মাওলানা উবায়দুল্লাহকে আমাদের বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম যে কেমন করে চিনবে, তার কোনও উপায় রাখা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ মাওলাবী জহীরুল হক (দ্বীনপুরী)-কে উর্দুতে যে পত্রটি দিল্লী থেকে ১৯৪৭ খৃস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর লিখেছিলেন, তার অনুবাদ এখানে তুলে ধরা হলো :

স্নেহভাজন জহীরুল হক,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আজাদী উপলক্ষে তোমার প্রেরিত পত্রের জন্য শুভেচ্ছা জানাই। পত্র পড়ে স্মৃতিপটে ভাসে শুধু মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধির স্মৃতি। সে ঘটনা অনেক লম্বা, সংক্ষেপ করলেও যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। ১৯১৪ সনে বিশ্বযুদ্ধের সময় শাহ ওলিউল্লার (রহ:) কাফেলার নেতা হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান (রহ:) অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধিকে কাবুল প্রেরণ করেন। সেখানে মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে কাজ করার সুযোগ পান। তার মধ্যে জার্মানী, ফ্রান্স ও জাপানের এমন সব কর্মী নেতা সেখানে ছিলেন যাঁরা পরবর্তীকালে শাসন ক্ষমতার উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। ২৫ বছর প্রবাস জীবন কাটানোর পর ১৯৩৯ সনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ্ যখন এখানে আসেন তখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তিনি তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা কংগ্রেসের কাছে পেশ করে সর্বভারতীয় সংগ্রামের প্রোগ্রাম রচনা করেন। সে সময় গান্ধীজী পর্যন্ত এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন; তাহলেও ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনটুকু অনুমোদন লাভ করে। একদিন চায়ের মজলিসে তাঁর সাথে আমার আলাপ হয়। তাঁর চোখ ও চেহারায় চিন্তার চিহ্ন দেখে আমার মনে অনুসন্ধিৎসা জাগে। আমি প্রশ্ন করতেই তিনি উত্তরে জানালেন, ‘আমার ইচ্ছা সুভাষ ভারতের বাইরে যাক।’ কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে তিনি তাঁর বাসা উখলায় ফিরে যান। দ্বিতীয় দফায় উখলা হতে দিল্লী পর্যন্ত আটমাইল সড়কের কোনও একটি জনমানবশূন্য স্থানে তাঁর সাথে সুভাষের সাক্ষাৎ সংঘটিত হয়। তার পরের সাক্ষাৎটি হয়েছিল কলকাতায় বালিগঞ্জ এলাকায়। এখানেই তিনি সুভাষকে জাপান যাত্রার জন্য রওনা করেন। জাপান সরকারের নামে অন্তবর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে তিনি একটি পরিচয় পত্র দেন এবং সেখানকার প্রধান সেনাপতির নামে একটি ব্যক্তিগত বিশেষ বার্তা পাঠান। তাই সুভাষ সেখানে পৌঁছনোর সাথে সাথে জাপান সরকারের সেনা বিভাগও তাঁর প্রতি আস্থা স্থাপন করতে পেরেছিল। … শেষ পর্যন্ত ভয়ঙ্কর বিষ প্রয়োগে মাওলানা সাহেবের জীবন শেষ হয় (1944 সালের 20 আগস্টে)। 1945-এর 1 সেপ্টেম্বর পুরো একবছর নয়দিন পর সরকারিভাবে স্বীকার করা হয় মাওলানা সাহেব নিহত হয়েছেন। বাস্তবিক এমনি একজন বিপ্লবীকে ওজনের তুলাদণ্ডে এক পাল্লায় রেখে অন্য পাল্লায় সারাপৃথিবী চাপালেও এ বিপ্লবীর সমান হয় না…
আপনার সম্মানীয়া আম্মার প্রতি রইল আমার আন্তরিক সালাম।
– ইতি আবুল কালাম (আজাদ)।*
———
*এ চিঠির অনুবাদ (মাওলানা) মুহাম্মদ তাহের (সাহেব) সম্পাদিত ‘ইনসানিয়াত’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।
#সূত্র : ‘চেপে রাখা ইতিহাস’ – গোলাম আহমাদ মোর্তজা
( হেরার আলো থেকে কপি )
#সবার_ইনসাফ 👍

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© বঙ্গকবি মিডিয়া লিমিটেড