1. protinews24@gmail.com : protinews.com : Bamgakobi Zahed
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

গোবিন্দগঞ্জের ৫০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দী অন্তত লাখ মানুষ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪১

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে করতোয়া নদীর পানি ৯৮ এর পরের বন্যার সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়,
বৃহস্পতিবার(১লা অক্টোবর) দুপুর ১২টায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।১৯৯৮ সালের পর থেকে এ নদীর পানি কখনো বিপৎসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়,৯৮ এর পর ১৯৯৯ সালে সর্বোচ্চ ১০৪ সেন্টিমিটার, ২০১৭ সালে ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।এরপর ২০২০ সালের প্রথম দফায় বন্যায় ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

কিন্তু গোবিন্দগঞ্জের ২০২০ সালের দ্বিতীয় দফায় আকস্মিক বন্যায় অতীতের সে রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রতিদিনই অবনতি ঘটছে বন্যা পরিস্থিতির।বর্তমানে অব্যহত ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে হু হু করে গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে পানি বৃদ্ধির ফলে গোবিন্দগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের পৌরশহরের খলসীচাঁদপুরের পূর্বের ভাঙ্গা দুটি পয়েন্টের অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে পৌরশহরের একাংশসহ ডুবে গেছে।

উপজেলার বগুলাগাড়ী নামাপাড়ার সড়ক ভেঙ্গে দরবস্ত ইউনিয়নের ৮টি গ্রাম, করতোয়া নিকটবর্তী হরিরামপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম,তালুককানুপুর ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম,মহিমাগঞ্জের বোচাদহ ও বালুয়া বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে রাখালবুরুজ ইউনিয়নের ৪টি, শিবপুর ইউনিয়নের ৩টি, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৫টি, এছাড়াও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ৫টি শালমারা ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম,সাপমারা ইউনিয়নের ৪টি গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাট, শত-শত বিঘা ফসলী জমি পানিতে ডুবে গেছে। এসব বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় পানিবন্দী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। শুকনো খাবার ও জ্বালানির অভাবে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও গবাদি পশুরও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার অনেকে ইতোমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে গরু, ছাগল নিয়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে উপজেলার তিন হাজার
হেক্টরের বেশী জমির আমন ধান, আখ, এবং বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

এদিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স চত্তরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ডাক্তার, নার্স, রোগী ও তার স্বজনদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন হচ্ছে।

অপর দিকে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পৌর শহরের পশ্চিম অংশ চৌমাথা এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কে ৩ ফিট পরিমান পানি উঠায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে।এ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন।কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ভারী যানবহনগুলোকে পলাশবাড়ী উপজেলা হয়ে পলাশবাড়ী -দিনাজপুর অঞ্চলিক সড়কে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

বন্যার এ পরিস্থিতিতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ জানান বুধবার জেলা প্রশাসক বন্যা এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং বানভাসিদের জন্য ১০টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন।ঐ বরাদ্দে বাড়তি আলু ডালসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী যুক্ত করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং গোখাদ্য ও শিশুখাদ্যসহ আরও কিছু বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে।
সংযুক্ত ছবি- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস ও পৌর সভার পশ্চিম চৌরাস্তা এলাকার বৃহস্পতিবার(১লা অক্টোবর)
চিত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© বঙ্গকবি মিডিয়া লিমিটেড